Journal

তোমাকে দেখি

তুমি যদি বর্ষা দিতে চাইতে
আমি হাজার চৈত্রের সাথে ভালবেসে দেখা করতে চাইতাম।
তুমি যদি ফাল্গুনের সন্ধ্যা হবে বলতে
আমি হাজারটা পৌষের রাত থেকে যেতেম নিরন্ন মাটিতে।

তোমাকে যতবার ধরি
শিথিল আঙুল শোনে বাতাসের পিছলে যাওয়া
শূন্য থেকে শূন্যতর দিকে।
যতবার ডাকি তোমার নামের প্রথম বর্ণটুকু নিয়ে
হৃদয়ের পাতালঘরে কারা যেন ধমকে ওঠে
রূঢ় এক অপার্থিব স্বরে।

আমিও ভয় পাই..
প্রচন্ড রোদে নিজের ছায়াকে দেখে খানিকটা পিছনে।
আমিও থমকে যেতে চাই
চাঁদ এসে বন্দী হয়ে গেলে তোমার স্মৃতিতে..
জ্যোৎস্নায় মাখামাখি হয়ে
যাবতীয় স্মৃতিরা উঠে আসে বুকের চাতালে।
আমিও ভয় পাই তাকে, ঠিক তোমার মতোই।

যতটুকু শ্রান্ত হওয়া যায়, সবটাই নিজস্ব কাকুতি।
যতটুকু পিছিয়ে আসা যায়, অনেকটাই ইচ্ছাধীন নিজের।
তোমাকে বারবার দেখি
ধানক্ষেতে পাল তুলে নিয়ে যাচ্ছ টেনে শ্রাবণের ডিঙি,
বৈশাখের ঘোলাজলে নিভৃত আদর দিয়ে
ঢেকে দিচ্ছ মাছেদের পলাতক দেহ।

আমিও আবার বেঁচে উঠি।
দেহের মধ্যেই থাকে প্রাচীন কবর,
দুহাতে ঠেলে আবার জন্ম নেয় আমি, নতুন শৈশব।
তোমাকে মুগ্ধচোখ দেখি, ঐশ্বরিক প্রেমিকা আমার –
জীবনের মরা গাঙ ভরে দেবে একদিন নবীন সম্পদে।

ভালবাসি বলা মানে কতগুলো শব্দের সমাধি নাকি?
নাকি নিজেকে প্রবোধ দেওয়া বারেবারে প্রতারিত করে
নিজের বিবেক?
তুমি শুধু বলো, তোমাকে ছুঁতে গেলে
নিজেকেই স্পর্শ করতে হয় আগে
সরল ভালমন্দ নিয়ে পবিত্র আবেগে।

কতটুকু জানি, কতটুকু টেনে নিতে পারি সমুদ্রসঙ্গীতে,
আর কোন কাজ নেই তার পরিসীমা গুনে।
তুমি শুধু একদিন আসবেই বলেছিলে।
আমিও দুহাতে ধরেছি তাই পতঙ্গের জাল,
সময়ের সমস্ত ক্লেদ টেনে নেব বুকের জঙ্গলে..

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × 4 =

Check Also
Close