সুসাইড

ছেলে হিসেবে ভালোই ছিলো,
আশেপাশের সবাই বলতো।
তাই ও মেনেও নিয়েছিলো…
বন্ধুরা বলতো তোর সাথে যে মিশবে,
সহজে কি করে তোকে ভুলবে?
তুই তো ভোলার মতো নয়…
ভালো ছিলো… তো ভালোর হিসেব কেন পেলো না?
সপ্তাহ ধরে কিছু জিজ্ঞেস করছিলো,
তার উত্তর কেন পেলোনা?
ও বার বার জানতে চেয়েছে…
আমার জীবনে এতো যন্ত্রণা কেন?
উত্তরে সে বলেছে, নিজের কথাই শুধু ভাবো।
যদি..!
যদি সে…একবার হেসে কথা বলতো,
যদি বিষাদের দারিপাল্লা মাপতে পারতো,,
যদি সে ফেরার পথে একবার পিছন ঘুরে দেখতো..?
তোমার সাথে সাক্ষাতের পর…
ও আগের মতো ছিলো না।
একলা বসে বন্দি ঘরে
দেওয়াল, জানালা, পাখা, বালিশ ই শুধু দেখতো..।
বলেছিলো আছে যা, তোমার সাথে…
ভাগ করিনি তা অন্য কারো সাথে।
এরপর হাসির ইমোজি পাঠাতো
সে ভাবতো, হয়তো ও সামলে যেতো।
ও ভাবতো…
প্রতি ক্ষনে হাসির খোরাক কেন হই…
আমি ছাড়া, আমার প্রয়োজন কারো কেন নেই?
যদি…
যদি ওকে একটা কাঁধ দেওয়া হতো,
অকারনে গলা জরিয়ে কেউ বুকে পেতে নিতো…
যদি কেউ খোঁজ রাখতো…
ও না খেয়ে কেন ঘুমিয়ে পড়তো,
কেন ও বলতে বলতে চুপ হয়ে যেতো..
টেবিলে রাখা ডায়েরি টা কেউ পড়তো?
তবে তুমি জানতে…
তুমি জানতে… ওর কোন স্বপ্ন অবৈধ ছিলো না,
অনেকে আপন ছিলো, আপনজন ছিলো না।
সেদিন…
যদি কেউ ওর ঘরে সময় মতো পৌঁছাতে,
যদি কেউ ওকে শিশির ঢাকনি খুলতে আটকাতে!
যদি….
কথায় বলে সম্পর্ক বাঁধতে শেখায়…
সম্পর্কের বাক বন্দি খামে
নিজের ঘরে, নিজেই শেকল বাঁধা বন্দি ছিলো।
টেবিলের উপর শিশির সাথে মানিব্যাগ টা রাখা ছিলো…
তাতে মা -বাবা, বোনের ছবি ছিলো।
কিন্তু তখন কোন আপনজন, ওর কাছে ছিলো না,
নাম পারা বন্ধু অনেক ছিলো, মন ঘেষা ছিলো না।
মন বোঝার মতো কাউকে পাশে পেলোনা..!
ও কি মুক্তি পেলো?
তবে কিছু প্রশ্ন রেখে গেলো…



