Journal

সমুদ্র যখন একমাত্র সঙ্গী

জাহাজে বসে আছি আমি, মাঝ সমুদ্রের বুকে,

চারিদিকে কেবল জল—নীল, গভীর, অতল, অনন্ত এক সুখে।

কোনো তীর নেই চোখের সামনে, নেই কোলাহল, নেই শহরের গন্ধ,

শুধু নীরবতা, ঢেউয়ের ছোঁয়ায় বয়ে আনে প্রাচীন এক চন্দ।

আকাশটা বিস্তৃত, তারাদের গল্প শোনায়,

চাঁদের আলো ভাসে জলে—যেন কেউ নিরবে ভালোবাসায়।

একেকটা ঢেউ আসে আর যায়, আবার ফিরে আসে,

কোনো কোনোটা মৃদু, কেউবা যেন বুকে আঘাত হানে চুপিসারে।

 

মাঝেমাঝে মনে হয়, এই সমুদ্রও বুঝি নিঃসঙ্গ আমার মতোই,

তার বুকেও কি ভেসে বেড়ায় অভিমান, হাহাকার, নীরব কোনো কেঁদে ফেলা কথা?

আমি তাকিয়ে থাকি জলরাশির দিকে, যেন খুঁজে ফিরি পরিচিত কোনো মুখ,

যারা একদিন বিদায় জানিয়ে বলেছিল—“ফিরে এসো, আমরাই থাকবো সুখে।”

 

জাহাজটা বড়, কিন্তু হৃদয়টা যেন আরও বড় শূন্যতার দোলনায়,

শুধু ইঞ্জিনের শব্দ আর ঢেউয়ের ঘূর্ণি—এই দুটি গান বাজে সারাক্ষণ কানে।

এখানে রাত নামে নীরবে, সূর্য ওঠে নিঃশব্দে,

ঘড়ির কাঁটার মতো চলি আমিও, ঠিকানাহীন দিনগু‌লোর পেছনে।

সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে ভাবি—কতজন এভাবে একা হেঁটেছে জীবনের পথে?

কতজন ফিরে পায়নি, আর কতজন হারিয়ে গেছে এই নীল নির্জনতায়?

তবু সমুদ্র ছেড়ে যাওয়া যায় না, ঠিক যেমন ভালোবাসা ফেলে যাওয়া যায় না,

সে আমার সাথী হয়ে গেছে—জলে ভেসে থাকা প্রতিটা প্রশ্নের জবাব দেয় না।

তবুও আমি থাকি, একা এই বিশাল নীলের সান্নিধ্যে,

ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় নয়, বরং এই মুহূর্তের নিঃশব্দে।

কারণ জানি, এই সমুদ্র একদিন আমাকে পুরোপুরি গ্রাস করবে না,

সে শুধু পাশে থাকবে, নীরব বন্ধু হয়ে— একজন প্রকৃত নাবিকের মতো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − two =

Check Also
Close